bdtime

বঙ্গাব্দ ꘡

কবিতা ও কবিত্ব: কবি ব্যক্তিত্বের লৌকিক অধ্যাস



শামীম সাঈদ

কবিতা বিষয়ে লিখতে বসে ভেবেছি, কবিতার সংজ্ঞায়ন প্রচেষ্টাও কি কিছু মাত্রায় করতে যাচ্ছি আমি! না, আমি তা করতে যাচ্ছি না। আমি আসলে কিছু মরমী কথা, অনুভবী কথা লিখতে বসেছি। কবিতার কোনো সংজ্ঞা দেয়ার প্রয়াসে যাই কী করে! এও কি সম্ভব? কিংবা অতীতের যতো সংজ্ঞার মতো কথা মানুষ বলেছে, মানুষ জেনেছে, তা সকল কি যথেষ্ট ও যথার্থ হয়েছে কবিতা বোঝার জন্য, কবিতা চেনার জন্য, কবিতা বোধে নেয়ার জন্য? তবু, আপ্তবোধটিকে কদাচ অচেনা মনে হলে কেবল কিছু প্রশ্ন করা যায়। কবিতা কি? কবিতা কেমন? কিন্তু, কবি কিংবা কবিতা-পাঠক, কেউ-ই এই জিজ্ঞাসার উত্তর খোঁজে না। এ তাদের বাঞ্ছনীয় কর্তব্যও নয়। যিনি তাত্ত্বিক কাঠামোয় সমালোচনার মানসে যুক্তিগ্রাহ্যতার পথে বিশ্লেষণ করতে কবিতা পাঠ করবেন, তিনি হয়তো এমন কিছু প্রশ্নের উত্থাপন করবেন, করে থাকেন ক্বচিৎ। কবিমন ও পাঠকমন উপভোগ করে, কবিতার গভীর মর্মোদ্ধারে সচেষ্ট হয়, কিন্তু, উত্তর খুঁজে না। কবি ও পাঠকের সার্থকতা লেনাদেনায়। কবি তার আপ্তোপলব্ধ বোধটাকে পাঠকে সঞ্চার করতে চাইলে নন্দনরসে দ্রবিভূত হয়ে কবিবোধের সেই মর্মবস্তু পাঠকে সঞ্চরিত হয়ে যায়। শিল্প তখন আধারের ভিতরে স্বয়ং আধার এবং স্বয়ং আধেয় বস্তু। এবং কবি বোধ তখন আরেক আধেয়, শিল্পের আধারে।আর তখন কবির কাব্য বা শিল্পতরী ভাসে ভাব ও ভাষার অথৈ সাগরে।কবিতার পাঠক তখন হাবুডুবু খান সেই সাগরে, কিন্তু তলিয়ে যান না। কতো বিচিত্র ভঙ্গির সাঁতার তার তখন।কবিতা আপনি উত্তর হয়ে ধরা দেয় কবিত্বসংবেদনশীল মনে। মনের অবয়বে মিলিয়ে কবিতা লেখা হয়, কবিতা পড়া হয়। কবিতার পাঠোদ্ধার করতে মনের স্বরূপ জানতে ব্যস্ত হবার দরকার দেখি না, মন কিংবা কবিতা কেবল অবগাহন চায়। অবগাহনে কবিতা ধরা দেয় কবির কাছে, কবিতার উপভোক্তার কাছে। এ নিতান্ত বৈষয়িক কথা, মর্তবাস্তুলোকের কথা। মনবাস্তুলোকের কথা অমৃত সমান। জড়বাস্তলোকের, সমাজ-সাংসারিকতার কথা, গুণটানা মনেরকথা। যাপনের দুঃখ-বেদনা, সাধ, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা-যতো কথা ততো বলা যায় না, যতোটুকু বলার তার সবটুকু ভাষা খুঁজে পায় না, যতোটুকু বলা যায় তার সবটুকু লৌকিক ভাষার অর্থময়তায় ধরা যায় না, বোঝা যায় না; কেবল এক মনের অনুভবটুকুকে আরেক মনে সঞ্চারিত করা যায় অবাঙ, অনর্থের বিষাদানন্দে। কবি ঐটাই করতে চায়, মনে মন মেশাতে, মনে মন সঞ্চার করতে। এই সঞ্চারের প্রক্রিয়ায় ভাষা যতোটুকু মনকে ধরতে পারে ততোটুকুই কবিতা। কবিতা মানুষের মনের মতো। মানুষের মন কেমন? মানুষ তা জানে না। অজস্র কথায়, মন কি, তা বোঝানো যায় না সংজ্ঞায়নের সংকীর্ণ প্রয়াসে। মন মানুষের লৌকিক অলোক, মর্তবাস্তুলোক, বস্তুগতবোধ ও জড়সীমার মাঝে এক পরাজগৎ। মন সীমা ও নিঃসীম ধারণার অতীত ধারণা। মন ব্যক্ত ও অব্যক্ত। মন অবয়বহীন। মন একটি ধারণাকাঠামো, মর্তবাস্তুলোকের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাসঞ্জাত লৌকিক অধ্যাস। আর, মানুষের মর্তধারণা কেবল পৃথিবী ধারণার মাঝেই সীমায়িত নয়। মানুষের মর্তের কতো রূপ, স্বয়ম্ভু স্বরূপ; আর নির্ণয়াতীত তার পরিধি। মানুষের মন সেই পরিধির সমান বিস্তৃতি লাভ করতে চায়। বিস্তারকামী এই যে ব্যাকুলতা, কল্পনা বলো হোক ওকে। কবিতাও ঐ-ই। কবিতা মানুষের মন সঞ্চার প্রক্রিয়ায় ভাষাগত বয়ানের একটি শিল্পরূপ; মানুষের মনের মতো বিস্তারশীল কিন্তু সীমা না-খোঁজার, সীমা না-মানার খেলা। সকল মানুষই এমন একটি মনের মালিক বা মনের দাসত্ব করে। কবিতা হলো মানুষের মনের সঞ্চারকামীতা, সঞ্চারশীলতা এবং তাকে শিল্পস্বরূপে উদ্ভাসিত হতে হয়। এবং মন অবাক্সময় না হলে কবিতা বলো না ওকে। কবিতা মনের মতো, তাই বলে মন কবিতা নয়। তা হলে তো সকল মানুষকেই কবি বলা যেতো! কিন্তু, ‘সকলে কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ মানুষের মন তার অভিজ্ঞতা ও তজ্জাত সিদ্ধান্তের ফিউশন। মানুষের মন হলো ন্যুমেনা ও ফেনোমেনার সমষ্টি এবং তজ্জাত অনুসিদ্ধান্তরূপে স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার সমষ্টি হলো মানুষের অধ্যাস, লৌকিকতাজাত মায়াপ্রপঞ্চ। এই মায়াপ্রপঞ্চই ভাষায় বাক্সময় হতে চাইলে, শিল্পরূপে তা কবিতা। মানুষ তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে চায়, কিন্তু বলতে চায় শিল্পিত রূপে। এই শিল্প সবারে ধরা দেয় না বা সবারে বাসে না ভালো। ফলে, কেউ কেউ প্রেমিক বা প্রেমিকা, কেউ কেউ কবি। শিল্পের বিচিত্র রূপ। শিল্পের ভাষাও বিচিত্র। সাহিত্য, চিত্ররূপ, অভিনয়, নৃত্য, সংগীত-সুর, মূর্ত কিংবা অমূর্ত অবয়বনির্ভনর বস্তুগত প্রকাশ‒সকলই শিল্পের ভাষা। বা, বলতে পারি, এই সকলই মানুষেরও ভাষা। কিন্তু, কবিতার ভাষা মূলত মানুষের প্রতীকী লিপিময় বর্ণ, অক্ষর, শব্দ ও বাক্যের। কিন্তু, অক্ষর, শব্দ ও বাক্যের বিন্যাসে যে ভাষার রূপরেখা দাঁড়ায় তা তো মূলত সাহিত্যের বাহন, কবিতার একক রাজত্ব তো নয়। সাহিত্যের তো আছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্দ, রম্য, ভ্রমণ‒কতো না প্রকরণ! ফলে, মানুষের শিল্পিত ভাষাসমূহের মধ্য থেকে সাহিত্যকে যেমন প্রকরণগত ধারণায় অন্যগুলোর থেকে ভিন্ন হতে হয় তেমনই কবিতাকেও সাহিত্যের অন্যান্য প্রকরণসমূহের থেকে আলাদা হতে  হয় রূপ, গুণ ও বৈশিষ্ট্যে তথা স্বতন্ত্র স্বরূপে; যেন মনের ভিতর আরো কতো না মন কিন্তু, সকল মনই আত্মগরিমায় গরিয়ান। কোনো মানুষই মনহীন নয়, কোনো মানুষই ভাষাহীন নয়, কিন্তু, সকল মন ভাষায় প্রকাশিত হতে পারে না, প্রকাশমান সকল ভাষাও শিল্পের ঐশ্বর্য খুঁজে পায় না বলে তা সাহিত্য নয়, কবিতা নয়। শিল্প মানুষের লব্ধ অভিজ্ঞতা ও তজ্জাত জৈবনিক অনুসিদ্ধান্তসমূহ যা নান্দনিকতায় মানুষের কল্পনা নামের এক অদ্ভুত ভূতের ভূতুড়ে কাণ্ডের মতো ঘটে যেতে চায়। এই কল্পনা নামের ভূতের একটি ডাক নাম থাকে সবসময়, লোকে ওকে ডাকে ‘ইচ্ছে’বলে। ইচ্ছের কতো কী যে করতে ইচ্ছে করে! এর নাম নন্দভূত। এ কি গোকুলের নন্দের মতোই লীলাময়! হুম, অমনই। কিন্তু, আরো আরো লীলাময় তা। কতো কিছু ঘটে চলে মানুষের মনের ভিতরে। কতো কিছু ঘটিয়ে দিতে চায় মন আর কবিতা। যা নয়, তাই; ঘটিয়ে দিতে চায় সম্ভবকে অসম্ভবে কিংবা অসম্ভবকে সম্ভবে। নিয়ে যেতে চায় ভূতকে ভবিষ্যতে, ভবিষ্যৎকে লেলিয়ে দিতে চায় ভূতের পিছনে কিংবা ভূতকে তলিয়ে দিতে চায় সময়ের অতলে অতীতে। কী যেন খুঁজে ফিরে মানুষের এই অদ্ভুত কল্পনা। পাওয়াটুকুতে সে আশ্বস্ত নয়, না-পাওয়ার মহিমা জানতে চায়। এর নাম বোধহয় অতৃপ্তি, এই হলো সর্ষেদানা, এর ভিতরেই ভূতের বাসা। মানুষের অতৃপ্তি গড়িয়ে চলে পরিবর্তনের পথে। অতৃপ্তির দ্বন্দ্বে যখন পরিবর্তনের প্রচলিত পথ গুড়িয়ে যায় তখন যে বাস্তবতার জন্ম হয়, তার নাম বিপ্লব! অর্থাৎ এই হলো মানুষের কাঙ্ক্ষিত বাস্তব। এই হলো নন্দনের, শিল্পের কাঙ্ক্ষা, কবিতার আরাধ্য আর মানুষের লোকোত্তর লৌকিকতা। মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা, নিত্য যাপনের অভিজ্ঞতা এবং তজ্জাত কাঙ্ক্ষা, ইচ্ছে ও তার অভিমুখ কল্পনা, সে-ই তো মন। ফলে মন পরিণামে অবস্তব কিছু নয়, মূলত মানুষের লৌকিক পরালোক, পরলোক নয়; পরাবাস্তব, কিন্তু তা অবাস্তব কিছুতেই নয়। মন মানুষের লৌকিক অধ্যাস, কাঙ্ক্ষিত বাস্তবের রূপরেখা। কবিতাও তা-ই, কাক্সিক্ষত বাস্তবের দিকে তার পরিক্রমা। রূঢ় বাস্তবতা থেকে স্বপ্নময়তায়, পরিবর্তনের পথে। যুক্তি থেকে কল্পনায় বিহার এবং পুনঃ যুক্তিতে ফিরে আসা, আরেক বাস্তবে, বিপ্লবে। জড়ে জন্ম নিয়ে মন উড়ে যায়, পুনঃ মন ফিরে আসে জড়ের আধারে। কবিতা মানুষের মনের উড্ডীন প্রপঞ্চ।
কবিতা ও কবিত্ব কিংবা কবি মুহূর্তের ব্যাপার। একজন কবি সর্বদাই কবি নন। কেউ যখন একটি কবিতা লিখে ফেললেন, সেই মুহূর্তে তিনি কবি। কিন্তু, এই কবি স্বীকৃতির পরে তিনি যাকিছুই লিখুন না-কেন তার সবই যে কবিতা নামে স্বীকৃত হবে তার তো নিশ্চয়তা কবি দিতে পারেন না। ফলে কবিত্ব প্রকৃত পক্ষে কবিতার সাপেক্ষে। কেন সকলেই কবি নয়, আর কেন কেবল মাত্র কেউ কেউ কবি, এই জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। সম্ভবত, কেউ-ই পান নি এখনো পর্যন্ত তার সন্ধান, কিন্তু তা দুর্লভ মোটেই নয়। এই জিজ্ঞাসাটি কেবল কবিতার নয়, মূলত শিল্পের রহস্য জিজ্ঞাসা। কেন সকলে শিল্পী নয়? এই প্রশ্নেরই সমান্তরাল প্রশ্ন‒ কেন সকলেই কবি নয়? ফলে, কোনো ব্যক্তিত্বে শৈল্পিক দক্ষতা কিংবা কবিত্ব কেমন করে আসে, তার উত্তর প্রচেষ্টা সকলে করেন না। এই জিজ্ঞাসার অমীমাংসার দরুণ শিল্প, সাহিত্য এবং বিশেষত কবিতা বিষয়ক চিন্তার চৌহদ্দিতে অলৌকিকতার প্রসঙ্গকে অনেকেই এনে হাজির করেন। কবিত্বে নবীত্ব প্রতিষ্ঠার বোকা প্রয়াস প্রায়শ কারো কারো বচনে উঠে আসে। এইরূপ ভাষ্যের মধ্যে যে বিশেষ দুরভিসন্ধি থাকে তাও নয়, বরং বিষয়টি অদিকতর যথার্থ চিন্তাহীনতা ও অনুসন্ধিৎসাহীনতার দিকে ঝোঁকা প্রসঙ্গ। শৈল্পিক দক্ষতা শিল্পীর কোনো অলৌকিক উৎসে প্রাপ্ত গুণ নয়, তেমনই কবিতা ও কবিত্ব কবির নিকট কোনো অলৌকিক উৎসের অবতরণ নয়। ‘প্রতিভা’ অভিধায় ব্যাপারটিকে বোধগম্য করার চেষ্টাও হয়ে থাকে। কিন্তু, এই প্রতিভার আলোচনাও কোনো এক পর্যায়ে অধ্যাত্মবাদী আলোচনার আঙ্গিনায় ঢুকে পড়ে। প্রসঙ্গটি অধ্যাত্মবাদী, অলৌকিক কিংবা পারলৌকিক নয় মোটেই। এই বিষয়টিকে পারলৌকিক না বলে পরালৌকিক অভিধায় বুঝতে চাইলে বোধে আসবে সকাঠামোয়, স্বরূপে। পূর্বেই বলেছি, পরালৌকিকতা আমাদের লৌকিকতারই সমান্তরাল এক জগৎ এবং লৌকিক জগতাভিজ্ঞতাই তার শর্ত, কেবল তা-ই নয়, পক্ষান্তরে আমাদের লৌকিক জগৎও পরালৌকিকতার শর্তসাপেক্ষ-অস্তিত্ব, সে-ই আমাদের জড়জগৎ। আমাদের জড়জগৎ আমাদের মন্ময়, আর আমাদের মনও আমাদের জড়জগৎময়। যতোটুকু তার জ্ঞাত, সেটুকুকে পুঁজি করে তা অজ্ঞাতকে আবিষ্কারে নেমে পড়ে। এই অনুসন্ধিৎসার শিল্পরূপককে কবিতা বলো। ফলে, শিল্প এবং শিল্পের সকল প্রকরণের দক্ষতা বা প্রতিভা মানুষে, কোনো বিশেষ ব্যক্তিত্বে কিভাবে আসে, তার রহস্য এই জড়জগতেই বিদ্যমান। সুতরাং, কবিতার অস্তিত্বের, কবিত্ব গুণের উৎস-অলোকসম্ভাবনাকে কিছুতেই স্বীকার্যে রাখতে পারি না। তেমন সম্ভাবনার স্বীকৃতি সূচক আলোচনাকে জ্ঞানকাণ্ডহীন মানবীয় অনুসিদ্ধান্তরূপে ধরে নেয়া যায়। যদিও মহামতি সক্রেটস্ তাঁর জীবদ্দশাতে তাঁর সমাজ ও লোকালয়ের কবিগণের মধ্যে এক সমীক্ষা চালিয়ে অনুসিন্ধান্তে এসেছিলেন যে, কবিত্ব এক প্রতিভা যা অর্জন সাপেক্ষ নয়, এমনকি কবিতাপাঠকের যে কাব্যরসগ্রাহী বোধ ও অনুভভরূপক দক্ষতা‒ তাও অর্জন সাপেক্ষ নয়, বরং তা সহজাত গুণ। একই সাথে সেই সমীক্ষাসূত্রে তিনি আরেকটি পক্ষের কথাও উল্লেখ করেন, তারা হলেন সমালোচক পক্ষ। আর সমালোচকের যে বিশেষ গুণ তা যুক্তির নিরিখে অর্জন সাপেক্ষ জ্ঞান মাত্র, তা প্রতিভা নয় মোটেই। কিন্তু, এটা বলতেই হবে যে, তাঁর অনুসিদ্ধান্তসমূহ কেবলই সমীক্ষা সাপেক্ষ ছিলো, তাঁর সিন্ধান্তসমূহের যথার্থ কার্যকারণ সিদ্ধতা ছিলো না।
প্রতিভার সহজাততার ধারণাকে স্বীকার করে নিলে এই আলোচনা পুনরায় অধ্যাত্মমুখী ভাববাদীতায় পর্যবশিত হয়। বরং, একজন মানুষ অনেকের মধ্য থেকে কিভাবে শিল্পী বা কবি হয়ে ওঠে সেই রহস্য নিহিত থাকে তার ব্যক্তিত্বকাঠামোর ভিতরেই। সমাজমনস্তত্ত্ব, জৈবরসায়ন, ভৌতশরীরবিদ্যা এবং মানুষের মনোদৈহিক ক্রিয়াকলাপে কিভাবে তার প্রতিবেশ প্রভাব ফেলে, এইসমূহ বিজ্ঞান প্রক্রিয়ার যৌথ অনুসন্ধান প্রকৃত পক্ষে এই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম। যেমন মানুষের মন তার সহজাত ব্যাপার নয়, তেমনই কারো কবিত্বও সহজাত কোনো ব্যাপার নয়। ব্যক্তি ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠে, মন গড়ে ওঠে মানুষের প্রতিবেশে, কবিতাও জারিত হয় ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে সমাজ, ব্যক্তি, বস্তুজগৎ ও অবস্তুজগৎ-সমগ্রের মিথস্ক্রিয়ায়। এখানে প্রতিবেশের সাথে ব্যক্তিত্বের মিথস্ক্রিয়াই প্রধান ব্যাপার। আর এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্বের প্রতিবেশের পরিসীমাও সসীম থাকে না কিংবা সীমাবাচক ধারণার বাহিরে তা লীন হয়ে যায়, কিন্তু এই অসীমের মধ্যে পারলৌকিকতারও কোনো ঠাঁই নেই, এই অসীম এক পরালৌকিকতা। এই পরালৌকিকতা সমগ্র মানবসত্তার অভিজ্ঞতাকে ধারণ করতে পারে, সামষ্টিক কল্পনাকেও ধারণ করতে পারে। ব্যক্তির, ব্যক্তিত্বের অভিজ্ঞতা সসীম এক জ্ঞান ও ভাবপরিধি নির্মাণ করে। এই অভিজ্ঞতা অসীম প্রতিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে কল্পনার পথে। আর এই কল্পনা পরিকল্পনাশীল, অগ্রমুখী, পরিবর্তনকামী এবং মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী; তখন এই অসীম প্রতিবেশ মানুষের কল্পনার রঙ ধারণ করে, মানুষের কাঙ্ক্ষিত রূপে রূপান্তরশীল হয়। এবং মানুষের কল্পনা এই পথে তার সীমানাচিহ্নহীন প্রতিবেশের সমকক্ষ হয়ে উঠতে চায়। এখানে কবি, বিজ্ঞানী ও বিল্পবী একই যাত্রায় সামিল। আর কবি এই পরিধিচিহ্নহীন প্রতিবেশের এক ছোট্ট খুপড়ির বাসিন্দা মাত্র। ফলে, কবি হয়ে থাকেন স্থানিক, কবিতা ও শিল্পও স্থান চিহ্নের কলঙ্ক মোচন করে সর্বজনীন ও সার্বজননী হয়ে উঠতে পারে না। প্রতিবেশের ভিতরে মানুষের সামাজিক উপাচার সংস্কৃতির বৈশি^ক স্বরূপের সাথেও শিল্প কিংবা কবিতা সামঞ্জস্য রক্ষা করে সৃষ্ট হতে পারে না। শিল্পের শরীরে, কবিতার গায়ে স্থানিক সংস্কৃতির আঁতুড়গন্ধ লেগে থাকে। কবিও স্থানিক বৈশিষ্ট্যকে অতিক্রম করতে পারে না, ফলে কবিতা, শিল্প কেবল লৌকিকই নয়, তা স্থানিকও বটে; যেমন মানুষের মনও স্থানিক বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত নয়। কবিতাও কবি ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিত্বকাঠামোর মতো, তার মানসকাঠামোর মতো সীমায়িত ব্যাপার যা নির্দিষ্ট স্থান ও প্রতিবেশের খুপড়ির মতো স্থানিক অস্তিত্বসাপেক্ষ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। শিল্প কিংবা কবিতা, কেবল তা ‘নন্দন’ অভিধার সাধারণ একটি ধারণার সাথে সংশ্লিষট হতে পারে বলেই তা কল্পনাবাহন পায় আর মহৎ প্রতিবেশের সাথে অনি¦ত হয়। ব্যক্তির প্রতিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয় অভিজ্ঞতার নন্দন বৈশিষ্ট্যে রঞ্জিত অধ্যাস, অবভাসই হলো তার শিল্পবোধ, এবং এ-ই কবির কবিত্ব, কবির ব্যক্তিত্ব। মানুষের নন্দনবোধ কি সহজাত? নন্দনবোধ বিবর্জিত কোনো মানুষের অস্তিত্ব কি আছে? পরের প্রশ্নটির মীমাংসার সাথে পূর্বের প্রশ্নটির মীমাংসা সংশ্লিষ মনে হয়। তা যদি সহজাতও হয়, তখন এই সহজাততা নিশ্চয় একটি সাধারণ ধারণা, তাহলে তা রঙের বা রঞ্জকের ধারণার মতো একটি ব্যাপার আর ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সাপেক্ষে শিল্পনির্মাণ একটি কৌশল মাত্র যেখানে নন্দনবোধটি সাধারণ কিংবা সহজাতরূপে রঞ্জকের মতো উপকরণ মাত্র। ফলে সকল ব্যক্তিত্বের ভিতর নন্দনবোধ সাধারণ ও সাহজাত হলেই সকলে শিল্পী বা কবি হয়ে উঠতে পারে না, যেমন সবার হাতেই রঙ তুলে দিলেই সকলেই চিত্রশিল্পী হয়ে উঠতে পারে না বিশেষ কৌশল শিক্ষা ব্যতিত। ফলে, শিল্প নির্মাণ, কবিতা রচনাও একটি শিক্ষণ সাপেক্ষ ব্যক্তিগত দক্ষতা মাত্র। যে নন্দনবোধ শক্তির বদৌলতে একজন যখন কাব্যের সমালোচক হয়ে ওঠেন বিশেষ কৌশল তথা যুক্তি-বিচারশাস্ত্রমূলে, সেই নন্দনবোধই তাকে শিল্পী ও কবি করে তুলতে পারে যদি তিনি কাব্য রচনার বিশেষ কৌশলটিও অর্জন করেন। নিশ্চয় নন্দনবোধ বিবর্জিত কোনো ব্যক্তি নন্দনবস্তু তথা শিল্পের কিংবা কাব্যের সমালোচক হতে পারেন না। আর শিল্পের সমালোচনা কোনো যান্ত্রিক প্রকিয়াও নয়। ফলে, প্রতিভা বিষয়ে মহামতি সক্রেটস্-এর অনুসিদ্ধান্তসমূহ আর অনস্বীকার্য নয়, থাকে না।
কবিতা বিষয়ে পুনরায় শ্রেষ্ঠমতি সক্রেটস্-এর অনুসিদ্ধান্তে ফিরে আসি। তিনি মনে করতেন কাব্য রচনা ও কাব্য সমালোচনার যে গুণ ও ক্ষমতা, তা পৃথক দুটি গুণ এবং সেই সাথে কাব্য উপভোগের শক্তিও এই দুয়ের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তাঁর মতে, কাব্য উপভোগের শক্তিও অর্জন সাপেক্ষ শক্তি নয়, অনেকটা স্বভাবজ গুণ। এই অনুসিদ্ধান্তটিকেও যথার্থ জ্ঞান করা যায় না। এটা সাধারণ ব্যাপার যে যিনি কবি, যিনি কবিতার পাঠক এবং যিনি কবিতার সমালোচক; তারা প্রতেক্যেই যথাযথো কাব্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। কিন্তু, কাব্যবোধ সম্পন্ন সকল ব্যক্তিই কবিতা উপভোগ করতে পারছেন কিন্তু, সমালোচনা করতে পারছেন না। সমালোচক সমালোচনাও করতে পারছেন আবার উপভোগও করছেন কিন্তু কবিতা রচনা করতে সক্ষম হচ্ছেন না। কবিও কাব্যবোধ সম্পন্ন (নিতান্ত বাহুল্য কথা এখানে) কিন্তু সমালোচনা করতে সকল কবিই সক্ষম নন। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে যে, ‘ভাবজ’ বা ‘সহজাত’ কিংবা ‘প্রতিভা’ যা-ই বলা হোক-না কেন, তা সীমায়িত অর্জনসাপেক্ষ গুণ ছাড়া কিছু নয় এবং তা আবশ্যকরূপে কিছু মাত্রায় শিক্ষণ সাপেক্ষ ও চর্চায় তার উৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়। ফলে, কবিকে যেমন কবিতা রচনা শিখতে হয়, সমালোচককে সমালোচনার কৌশল শিখতে হয় কাব্যবোধ যথার্থ ও যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও, তেমনই কবিতা পাঠককেও কাব্যপাঠ ও কাব্য উপভোগ করতে শিখতে হয় কাব্যবোধ থাকা সত্ত্বেও; কেন না, শিল্প-সাহিত্য, বিশেষত কাব্য, তা কেবল উপভোগেই শেষ হয়ে যায় না। উপভোগই শেষ কথা, এই ধারণাকে কাজের কথা ধরে নেয়াে আর প্রাজ্ঞতা থাকে না। যারা যথার্থ কবিতা পড়তে জানেন না তারাই এমন খোঁড়া, অসার ধারণা পোষণ করতে পারেন। শিল্পের কলাকৈবল্যবাদী ধারণাকে গুরুত্ব দেয়া অন্তত কোনো মানুষের উচিত কর্তব্য নয় মোটেই। তা করলে মানুষের যাপনের অভিজ্ঞতা, মানুষের সংগ্রাম ও রূপান্তরকামী সমস্ত প্রচেষ্টার কাঙ্ক্ষিত ভবিতব্য কিংবা স্বপ্নকে চরম অপমান ও অবমান করা হয়। মানুষের স্বপ্ন ও কল্পনার এই পরিক্রমণই ‘জীবন’ বোধহয়। কল্পনা ও কল্পনা করার শক্তির মধ্যে নিহিত থাকে মানুষের সুখ, সাধ, সাফল্য এবং মানুষের সর্বমাঙ্গলিক সাধনার বীজ। কল্পনা করতে শিখতে হয়, স্বপ্ন দেখতে শিখতে হয়, সাধনা করতে শিখতে হয়। কবিতার প্রতিটি শব্দ, অলঙ্কার কেবল অলঙ্কার ও শব্দ মাত্র নয়। কবিতার অলঙ্কার ‘রূপক’ নামের স্বপ্ন, সাধ, কাঙ্ক্ষা ও কল্পনার আধার এবং তা মানুষকে যথার্থ প্রার্থিত রূপান্তরের দিকে নিয়ে যায়। এবং বিল্পবের প্রকৃত অর্থবাচকতাও নিহিত এই কল্পনাশক্তির ভিতরে, আর, তা বিল্পব কথাটির মর্মবস্তু ও লক্ষ্যের দিকে মানুষের অভিযাত্রাকে অর্থবান করে তোলে। সর্বশ্রেষ্ঠ মানবমঙ্গলমতি কার্ল মার্ক্সের উক্তিটি এখানে উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক মনে করছি। তিনি যেমন বলেন, ‘The revolution of the nineteenth century will look for its content in the poetry of the future’‒ অর্থাৎ নতুন যুগের বিপ্লব তার মর্মবস্তু তথা কনটেন্ট খুঁজে পাবে ভবিষ্যতের কবিতার ভিতরে। মার্ক্স উনিশ শতকের মানুষ ছিলেন বলে উনিশ শতকের উদাহরণ দিয়ে বলতে চেয়েছেন তাঁর উপলব্ধ সূত্রকথা। কিন্তু, কবিতার এই গুণ বা বৈশিষ্ট্য কাল নিরপেক্ষ ব্যাপার। মানুষের সর্বকালীন কাঙ্ক্ষার আধার রূপে তা সমকালীন। আমরা দেখি, মার্ক্সের সমস্ত চিন্তার মধ্যে যেটি প্রধানরূপে উঠে এসেছে তা হলো বিপ্লবের ফর্ম বা প্রকরণ ও পদ্ধতিগত আলোচনা। তিনি নিজেই বলেছেন ‘Value form is content-less’। আর, বিপ্লবের কনটেন্ট যদি খুঁজতে হয় কবিতার গর্ভে তখন কী করে আর কবিতার, শিল্পের কলাকৈবল্যবাদী চেতনাতে স্থির থাকা যায়! এবং কবিতাকেই-বা আর অতিলৌকিক প্রতিভার ফল, সহজাত কিংবা স্বভাবজ বলে মানুষের সাংস্কৃতিক অর্জনকে অস্বীকার করি কেমন করে! মানুষের সর্বমঙ্গল চেতনাই মূলত বিপ্লবের গর্ভবস্তু, মানুষ যার অনুসন্ধান করে লোক থেকে পরালোকে তথা কবিতার রূপকে কল্পনার, স্বপ্নের রূপায়িত জগতে; এখানে লোকান্তর ধারণার স্থান নেই। মানুষের জীবনের সমস্ত রূপক রূপায়ণকামী, লক্ষ্যাভিমুখীন। কবিতা সেই রূপক। মানুষের পরম্পরাগত সাধনা, রূপান্তরস্রোতে দক্ষহাতে দাঁড় বাওয়া, সভ্যতা ও ইতিহাসের ঘাতসহ পরিক্রমায় ভবিষ্যদ্গামীতায় কবিতাই যথার্থ বাহন, কল্পনার শক্তিই মানুষকে লক্ষ্যমূলের সন্ধান দেয়। কিন্তু, মনে রাখা বাঞ্ছনীয় যে, এই লক্ষমূল বা মর্মবস্তু মোটেই স্বয়ংসৃজিত কিংবা অলৌকিক ইশারায় সম্ভূত কোনো ব্যাপার নয়, তা মানুষের হাতে ক্রমরূপায়ণশীল। মানুষ কল্পনা করতে না শিখলে সেই বিল্পবের কাঙ্ক্ষিত মর্মবস্তু অর্জনে ব্যর্থ হবে। মানুষের অতীত ও বর্তমানের স্বরূপ বুঝতে এবং ভবিষ্যতের রূপায়ণফল পেতে কবিতার অর্থময়তাকে বুঝতে হবে। অর্থময়তাকে কেবল আক্ষরিক অর্থে নয়, শব্দের বহিরাঙ্গে নয়, বুঝতে হবে রূপকের যথার্থ অর্থবাচকতায়, স্বপ্ন ও কাঙ্ক্ষার স্বরূপে। বহু জ্ঞানশাখার জনক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের স্মরণযোগ্য এবং প্রাসঙ্গিক বিখ্যাত উক্তি‒ ইতিহাসের চেয়ে কাব্য, historia থেকে poiesis জ্ঞানের শ্রেয়তর পথ বা philosophoteron অর্থাৎ জ্ঞানকে ভালোবাসা এবং জ্ঞানার্জনের অধিকতর শ্রেয় পথ। মানুষের জ্ঞানের গুরুত্ব এর কল্যাণমুখিতার বৈশিষ্ট্যে। মানুষের জ্ঞান হলো তার লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষিত অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া যা চূড়ান্তে জীবনের পরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ অনুসন্ধান করে এবং কবিতা মানুষের জীবনের সেই অভিমুখীনতা। এই অভিমুখীনতা মানুষের অসীম প্রতিবেশ বা মহাপ্রতিবেশ তথা মহাবিশ্বের সর্বময় মঙ্গলার্থের দিকে ধাবিত হয় স্বপ্ন রূপকে, কল্পনা বিহারে। মানুষের সমস্ত লৌকিক অভিজ্ঞতার কাঙ্ক্ষিত অভিমুখীনতা হলো কবিতা। কাঙ্ক্ষাবস্তুর অনুসন্ধানে লৌকিক জ্ঞানে, পরালৌকি আধারে, পরাবাস্তুর আবাস কামনায়, বিপ্লবের নিহিতার্থ তথা বিপ্লবের চূড়ান্ত আধেয়বস্তুর তত্ত্বতালাশ কবির, কবিতার ও কবির কবিত্বের লক্ষ্য। এবং লক্ষ্য কখনোই ব্যক্তিগত, ব্যক্তিত্বের একান্ত অভিপ্সা হয়ে সীমায়িত থাকে না। যদিও সমস্তকেই স্থানিক, কালিক ও ব্যক্তিত্বের খুপড়িবাস্তু রূপে চিহ্নিত করা যায়, কিন্তু তার চূড়ান্ত লক্ষ্য পরাবাস্তুর অবয়বে লীন হতে, বিপ্লবের মর্মবস্তু পেতে তথা স্বপ্নের কাঙ্ক্ষিত রূপায়ণ সাধনে। আর সেই লক্ষে কবির যাত্রা প্রজন্মপরম্পরায়। এবং যদিও-বা এই লক্ষ্য কখনো অর্জিত হয়ে যায়, কিন্তু, এই লক্ষ্যও তো চিরধৃত থাকবে তার নিশ্চয়তা থাকে না। মানুষের মহাপ্রতিবেশের ভিতরে সেই অনিশ্চয়তা মানুষের চিরযাত্রার অভিমুখ হয়ে, কবির প্রজন্মান্তরের সাধনার ক্ষেত্র হয়ে তার সর্বমঙ্গলকামী লৌকিক অধ্যাস রূপে কবিতা ক্রিয়াশীল থাকে মানুষের লৌকিক উপযোগে।

লেখক পরিচিতি:
শামীম সাঈদ ( জন্ম: ১৯৭৯)
শামীম সাঈদ কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। জন্মকাল ১০ জানুয়ারি, ১৯৭৯ সাল। জন্মস্থান কলসনগর, লালপুর, নাটোর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্বে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। শিল্পসাহিত্যের ত্রৈমাসিক ‘অনুপ্রাণন’ এর সদস্য সম্পাদক।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: এই কথা বৃষ্টিবাচক (২০১৩), এভাবে খুলবে না আঁচলের খুঁট (২০১৪), সদা ভাগতেছে ভববান (২০১৪), নাঙ পূরাণ (২০১৭) ও স্বৈরমতি পিরিতের শূল (২০১৮)। প্রবন্ধ: বাঙালির দ্বিধার চলক (২০২০)  সম্পাদিত গল্পগ্রন্থ: কুঁড়িকাল ও যুগযাপনের গল্প (২০১৪)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য