bdtime

বঙ্গাব্দ ꘡

মাহমুদুল হক স্মরণে বিশেষ আয়োজন : শিকড়ে মাহমুদুল হক


মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০



মাহমুদুল হকের সাহিত্য কেবল সমকালীন নয়, ভবিষ্যতের পাঠকের জন্যও আশ্চর্য একটি জগৎ। তাঁর প্রথম উপন্যাস সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দেশ পত্রিকায় লিখেছিলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে প্রভুত্ব করার ক্ষমতা এঁর আছে। আর রশীদ করীম মনে করতেন, তিনি জাত লেখক। তিনি লিখেছেন খুব অল্প, তবে তাঁর কথাসাহিত্য ভাষা ও শৈলীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

দেশভাগ মাহমুদুল হককে তার শিকড় থেকে উচ্ছেদ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ১৯৪০ সালে তাঁর জন্ম হয়। বারাসাতে কালীকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখায় হাতেখড়ি হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাঁর পিতা পূর্ব পাকিস্তানে সরকারী চাকুরিতে যোগদান করলে ১৯৫১ সালে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে ঢাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকার লালবাগে ওয়েস্ট এন্ড স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় আড্ডাবজিতে মগ্ন হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ইতি ঘটান। এ সময়ে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার অনুবাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। যদিও অল্পদিনের মধ্যেই তা ছেড়ে দেন, শুরু করেন মনোহরী ব্যবসা। এরপর সেটা ছেড়ে জুয়েলারি ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। পরে গাঙচিল প্রেসের মাধ্যমে মুদ্রণশিল্প ব্যবসায় আসলেও তা পরে টেকেনি। 

বাংলাভাষার অন্যতম শক্তিমান এই কথাসাহিত্যিকের লেখালেখির শুরু শৈশবেই। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় ‘রেড হর্নেট’ (১৯৫৪) নামের একটি ডিটেকটিভ উপন্যাস লেখেন। মাহমুদুল হকের শিক্ষক ছিলেন কথাশিল্পী শহীদ সাবের। তাঁর প্রেরণায় ‘অগ্রগামী’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। এভাবে তাঁর লেখকজীবন শুরু হলেও তা থেমে যায় ১৯৮৪ সালে। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। ২০০৮ সালের ২১ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে গতিপথ বাংলা ওয়েবজিন বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। 

এই বিশেষ আয়োজনটির পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আমরা পাশে পেয়েছি মাহমুদুল হকের স্নেহধন্য কথাসাহিত্যিক ও কবি আবু হেনা মোস্তফা এনামকে,যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশে পেয়েছি, গল্প ও গল্পভাষ্যের কাগজ-গল্পকথা’র সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক চন্দন আনোয়ারকেও,যাঁর সহযোগিতা ব্যতীত অল্পসময়ে এই আয়োজন সম্ভব ছিলনা। তিনি গল্পকথা মাহমুদুল হক সংখ্যা (২০১৪) থেকে মূল্যবান কয়েকটি নিবন্ধ/প্রবন্ধ প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন। লেখা সংগ্রহ ও আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন গতিপথের সম্পাদনা দলে সদ্য যুক্ত হওয়া কবি ও গদ্যকার শামীম সাঈদ। এছাড়া এই আয়োজনের লেখকবৃন্দের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা। তড়িঘড়ি আয়োজনের ফলে অনেক স্থানে ভাঙ্গা ফন্ট থাকতে পারে যেগুলো দ্রুত সারিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি রইল। আরেকটি কথা না বললেই নয়, গতিপথ থেকে ‘শিকড়ে মাহমুদুল হক’ আবিষ্কার-চেষ্টা এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে না বরং যাত্রা আরম্ভ হ’ল কেবল-- সময়ের গতিপথে এ অভিযাত্রার সঙ্গে থাকার আহ্বান সকলের প্রতি। 

মাহমুদুল হকের সব বইপত্র

উপন্যাসসমূহ
অনুর পাঠশালা (১৯৬৭)
নিরাপদ তন্দ্রা (১৯৬৮)
জীবন আমার বোন (১৯৭২)
কালো বরফ (১৯৭৭)
অশরীরী (১৯৭৯)
পাতালপুরী (১৯৮১)
খেলাঘর (১৯৮৮)
মাটির জাহাজ (১৯৭৭)

শিশুতোষ উপন্যাস
চিক্কোর কাবুক (১৯৭৯)

গল্পগ্রন্থসমূহ
প্রতিদিন একটি রুমাল (১৯৯৪)
মাহমুদুল হকের নির্বাচিত গল্প (১৯৯৯)
মানুষ মানুষ খেলা (২০০৯)
অগ্রন্থিত গল্প [সংগ্রহ ও সম্পাদনা, আবু হেনা মোস্তফা এনাম] (২০১০)
⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝⃝

মাহমুদুল হক পাঠ

শিকড়ে মাহমুদুল হককে জানতে বুঝতে তাঁর উপন্যাস পড়তে হবে অবশ্যই। তাঁর উপন্যাসগুলো সংগ্রহ করে পড়ার অনুরোধ রইল। তাঁর গল্পও বিশুদ্ধ উপলব্ধির স্পর্শে সমৃদ্ধ। জীবনের বহুমাত্রিক বিস্ফোরণ হয়েছে তাঁর ছোটগল্পে। গল্প বলবার কায়দা বা দক্ষতায় মাহমুদুল হক এখানে অনন্য। সে বিবেচনায় তাঁর কয়েকটি গল্প পুণঃপ্রকাশিত হ’ল।


প্রতিদিন একটি রুমাল  কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশিত হবে...

রিজিয়ার পাপ  কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশিত হবে...

পরী ও বাবরালি কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশিত হবে...

হৈরব ও ভৈরব কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশিত হবে...

হলধর নিকারির একদিন কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশিত হবে...


মাহমুদুল হকের সাক্ষাৎকার 

 সাক্ষাৎকার গ্রহণ : লতিফ সিদ্দিকী

‘রোদ্দুর’ প্রথম সংখ্যায় (নভেম্বর, ১৯৯২) প্রকাশিত মাহমুদল হকের একটি সাক্ষাৎকার এখানে পুণঃপ্রকাশিত হ’ল। সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে রোদ্দুর সম্পাদকের কথা--
রোদ্দুর প্রথম সংখ্যায় মাহমুদুল হককে নিয়ে ক্রোড়পত্র করতে চাওয়ার প্রথম অন্তরায় ছিলেন স্বয়ং মাহমুদুল হক। তাঁকে রাজি করানাের কাজটি সহজ ছিল না। ইচ্ছে ছিল তার একটি নতুন লেখা ছাপবার। তিনি লিখছেন না অনেক দিন। তাই সে ইচ্ছা পূরণ হল না। এরপর ভাবলাম তার সাক্ষাৎকার নেব। এই আশায় বহুবার তার বাসায় গিয়েছি। কোনাে কোনাে দিন টানা ৭/৮ ঘন্টা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। কথা বলেছি বলাটা বােধহয় ঠিক হল না। বলা উচিত, শুনেছি তার কথা । অচিরেই বুঝতে পারলাম এভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া হবে না। বিষম ফোরে পড়া গেল যা হােক। অবশেষে বাঁচিয়ে দিলেন তিনি নিজেই। বললেন, পাঠক জানতে চায় এরকম বিষয়ে কিছু প্রশ্ন দিও আমি উত্তর লিখে দিব। আমাদের লিখে দেয়া প্রশ্নমালা থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। প্রশ্নমালার শেষে একটি ছক দিয়েছিলাম তাকে পূরণ করার অনুরােধসহ। তাতে একটা পরিচিতি পাওয়া যেত তাঁর। যেমন, তার জন্ম কবে, কোথা বাবার নাম কী, মার নাম কী, কোথায় কোথায় লেখাপড়া করেছেন এইসব। তা তিনি সেই কর্মটি পূরণ করার বদলে লিখলেন-'আমি এখনও মরিনি, আমাদের দেশে চার হাতপা ছড়িয়ে যারা বেঁচে আছে, এখনও তাদের আড়ালেই আমি জ্যাস্ত। আমি বেঁচে আছি, একথা বলছি না, বলছি আমি ভীষণ রকম জ্যান্ত। মােটকথা আমি বেঁচে আছি এ কথাটি মাথায় রেখে সব কিছু করলেই চলবে। মাহমুদুল হক। জন্ম অ্যাতাে অমুক অতাে তমুক অ্যাতাে এসব না করে, নতুন একটা কিছু করাে না। অতিমাত্রায় স্পর্শকাতরদের কাছে তাঁর এক কথাগুলাে অহংকার বলে মনে হতে পারে। হােক। রোদ্দুর  মনে করে এ অহংকারটুকু করার মতাে সঞ্চয় মাহমুদুল হকের আছে।
সাক্ষাৎকারটি পড়তে ক্লিক করুন


 

পাঠপ্রতিক্রিয়া

বাংলা কথাসাহিত্যের নিপুন শিল্পী অমর মিত্র। তিনি কলকাতায় বসবাস করলেও বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়মিত পড়েন। মাহমুদুল হকের কালো বরফ পড়েছিলেন, লিখেছেন তার কথা। 

কালো বরফ: জাতির জীবনের কালো দিনের কথা

 অমর মিত্র 

শিকড়ে মাহমুদুল হক


মাহমুদুল হকের লেখক মানসের সন্ধানে আমরা উদগ্রীব হই। একজন লেখক তাঁর সময়ে কীভাবে বেড়ে ওঠেন সেসময়ের প্রভাব কতটুকুই বা পড়ে লেখায় ও লেখকজীবনে, সে অনুসন্ধান আমাদের আগ্রহের জায়গা। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরো নতুন নতুন লেখা সংযুক্ত করতে সচেষ্ট থাকব। এখানে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইনের একটি নিবন্ধ এবং কথাসাহিত্যিক আবু হেনা মোস্তফা এনামের একটি প্রবন্ধ পুণঃপ্রকাশিত হ’ল। 

পাঠশালা বন্ধের একখণ্ড অসমর্থিত রিপোর্ট

মামুন হুসাইন
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦

মাহমুদুল হকের অবিনাশী বর্ণমালা

আবু হেনা মোস্তফা এনাম
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦

মাহমুদুল হকের উপন্যাস নিয়ে আলোচনা


করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করি। মাহমুদুল হকের প্রতিটি উপন্যাস নিয়ে পৃথক আলোচনা ব্যাতিরেকে মাহমুদুল হক নিয়ে বিশেষ আয়োজন পূর্ণতা লাভ করে না। তবে আমরা এইটুকু সামর্থ্য দিয়ে শুরুটা করতে পেরেছি। পরবর্তীতে প্রতিটি উপন্যাসের পৃথক আলোচনা যুক্ত হবে এই প্রতিশ্রুতি রইল।
এ পর্বে উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেন কথাসাহিত্যিক, কবি ও গবেষক শিমুল মাহমুদ এবং লেখক ও গবেষক নূর সালমা খাতুন।
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦

কালো বরফ : এক অনিঃশেষ রক্তক্ষরণের আখ্যান

নূর সালমা খাতুন
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦

মাহমুদুল হকের গল্প নিয়ে আলোচনা


কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর সময়ের আগেই নিভে গেলেন, তাঁকেও স্মরণ করি। গল্পকথা’র মাহমুদুল হক সংখ্যা থেকে তাঁর আলোচনাটি সংকলিত। এছাড়াও লিখেছেন কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক শফিক আশরাফ; গদ্যকার ও অনুবাদক বিদ্যুত খোশনবীশ;

মাহমুদুল হকের গল্পস্থাপত্য

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর 
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦

মাহমুদুল হকের গল্প : অস্তিত্ববাদীচেতনা

শফিক আশরাফ
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦

মাহমুদুল হকের কথাসাহিত্য: গল্পের শরীরে জীবনের অন্তর্স্রোত

 বিদ্যুত খোশনবীশ
𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦𓄦


 মতামত বা পরামর্শ  
[লিঙ্কে ক্লিক করুন]



অতিশীঘ্রই পুস্তক আকারে প্রকাশিত হবে 
গল্পকথা-মাহমুদুল হক সংখ্যা 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ